চুরি বিক্রি করে পিএসসি পরীক্ষায় পাশ করে ডেপুটি কালেক্টর হলেন এক অসহায় মায়ের মেয়ে

মহিলাদের অবলা বলা হলেও তারা কতটা শক্তিশালী তার উদাহরণ আমরা প্রতিপদের পেয়ে থাকি। এমন একটি উদাহরণ সমাজের সামনে মহারাষ্ট্রের নান্দের জেলার বাসিন্দা উপস্থাপন করেছেন। যিনি অনেক লড়াইয়ের পরে মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন এবং পুরো পরিবারের সম্মান অর্জন করেছিলেন।

আসুন আজ আমরা আপনাদের ওয়াসিমা শেখের অনুপ্রেরণামূলক গল্প টি বলি। সাধারণ মেয়ে হয়ে ডেপুটি কালেক্টর হওয়া পর্যন্ত ওয়াসিমার এই যাত্রা সহজ ছিল না, অনেক অসুবিধা গ্রহণের পরেও এই অবস্থান অর্জন করেছিলেন তিনি। সূত্রমতে প্রকাশিত হয়েছে যে তার বাবা মানসিক ভারসাম্যহীন এবং তার মা সংসার চালাতে চুরি বিক্রি করতেন বাড়ি বাড়ি।

এই পরিস্থিতিতে আমরা কেবল বুঝতে পারছি যে ওয়াসিমা শুরু থেকে কতটা আর্থিক সমস্যায় পড়েছিলেন কিন্তু তার দৃঢ় সংকল্প এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি সাফল্য অর্জন করেছিলেন

যা সবার জন্য নির্ধারিত নয়। যেমনটি আমরা বলেছি ওয়াসিমার বাড়ির আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল তাই পরিবারের খরচ চালাতে তার মা চুরি বিক্রি করতেন এবং তার সাথে তার ছোট ভাই রিকশা চালাতেন।

ওয়াসিমার ছোট ভাই যখন স্নাতক শেষ করে একটি ছোট সংস্থায় কাজ শুরু করেছিল তখন সে ওয়াসিমের পড়াশোনার জন্য টাকা দেওয়া শুরু করে। ওয়াসিমা তার প্রাথমিক শিক্ষা গ্রামের টাউন কাউন্সিল স্কুল থেকে করেছিল এবং তার পরে তিনি ব্লকের একটি হাই স্কুল থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে।

ওয়াসিমার স্বপ্ন অনেক বড়ো ছিলো, কিন্তু সেগুলি বাস্তবায়নের জন্য তিনি সময় পাচ্ছিলেন না কারণ এটি আমাদের সমাজে প্রায়ই ঘটে যে মেয়েদের খুব তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। ওয়াসিমার ও বিয়ে হয়ে যায় 18 বছর বয়সে কিন্তু তার ভাগ্য তার সাথে ছিল। তার স্বামীর নাম শেখ হায়দার যখন মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং ওয়াসিমা কেও পড়াশোনায় সহায়তা করেছিলেন।

ওয়াসিমা তখন সংবাদপত্রগুলি অনুপ্রেরণামূলক গল্প গুলি পড়তেন তখন তিনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলেন এবং তিনি পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তার জন্য প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন। তারপরে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি পুনে যান। 2018 সালে ওয়াসিমা মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি বিক্রয় পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন।

এভাবে তিনি দ্বিতীয় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন এবং আরও 1 বার একই পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তারপর 2020 সালে তিনি কেবল মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হননি তিনি পুরো মহারাষ্ট্র মহিলা বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। এইভাবে ওয়াসিমা শেখের সাফল্যের গল্পটি যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করে যে যদি নিরন্তর চেষ্টা দৃঢ়তার সাথে করা হয় তবে সাফল্য অবশ্যই পাওয়া যায়।।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*