বলুন এখানে কয়টি বাঘ আছে?

এখানে কয়টি বাঘ আছে, কেউ যদি সঠিক উত্তর প্রদান করতে পারেনে তাহলে তাকে মূল্যবান পুরস্কার প্রদান করা হবে, নিচে নাম ও ঠিকানা কমেন্ট করে দেয়ার জন্য অনুরোধ রইল এবং সঠিক উত্তর দাতাই পাবেন এই পুরস্কার।

বিস্তারিত:
বিয়েতে সবার সঙ্গে সবার দেখা হলো। হলো ভাব বিনিময়। সিংহের সামনে বাঘ, বাঘের সামনে হরিণ। হরিণের দল আনন্দে লাফালাফি করছে। বাঘ বাঁকা চোখে এসব দেখে। কিন্তু ঘাড় মটকাতে পারে না। রক্ত খেতে পারে না।

বনের গরু সদলবলে বাঘের সামনে হাঁটছে। ভেড়া দলবেঁধে ছোটাছুটি করছে। পাখিরা মনের আনন্দে উড়াউড়ি ঘুরাঘুরি করছে। কেউ কাউকে আক্রমণ করছে না। কারণ, মাস কয়েক আগে বনে নতুন নিয়ম করা হয়েছে। কারো বিয়ে, জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিনের অনুষ্ঠানে বড়রা ছোটদের মারবে না। এমনকি কেউ কারো ঘাড়ও মটকাতে পারবে না। নিয়মের বাইরে গেলে বনের রাজা বিচার করবেন। বিচার অনুয়ায়ী অপরাধীকে সাজা ভোগ করতে হবে।

বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলে যে যার মতো বাড়ি ফিরছিলো। গল্প করতে করতে একসঙ্গে ফিরছে শেয়াল আর কচ্ছপ। দীর্ঘক্ষণ হাঁটার পর দুজনেই ক্লান্ত। একটু দূরে আড়ালে গিয়ে বসলো তারা। এরপর জমিয়ে আড্ডা দেওয়া শুরু করলো। আড্ডায় অনেক আলাপ আলোচনা হয় বনের প্রাণীদের সুখ-দুঃখ নিয়ে। দুর্বলের উপর সবলের আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। কেউ কারো উপর অত্যাচার করতে পারবে না এমন আইন করতে হবে।

শেয়াল আর কচ্ছপের বন্ধুত্বের কথা বনের সবাই জানে। জানে বলেই বনের পশু-পাখিরা তাদের হিংসে করে। শেয়াল সেদিকে কান দিতে চায় না। চারপাশের কানাঘুষা চলে। কচ্ছপের মনে ভয় বাড়ে, যদি বন্ধুত্ব ভেঙে যায়, ভুল বুঝে শেয়াল দূরে সরে যায়! শেয়াল কোনো গুজবেই কান দিতে চায় না। নিজেরা ঠিক থাকলে ভুল বোঝাবুঝি হবে না। শেয়াল বিশ্বাস করে, বনে এমন বন্ধুত্ব আরো থাকা দরকার। তাহলে সবার মাঝে শান্তি ফিরবে। কারণে-অকারণে কেউ কাউকে মারবে না। দুর্বলের উপর ঝাপিয়ে পড়বে না। সবার মাঝে ফিরে আসবে শান্তি-শৃঙ্খলা।

শেয়াল আর কচ্ছপ গভীর আলোচনায় মগ্ন। দূর থেকে দেখছে এক বাঘ। বাঘ খুবই ক্ষুধার্ত। সারাদিন কিছু খেতে পায় না। বাঘ ভাবছে এবার অন্তত ক্ষুধা মিটবে। বাঘ নিঃশব্দে এগিয়ে আসে সামনের দিকে। তা দেখতে পায় শেয়াল। এমন বিপদের কথা কচ্ছপকে না জানিয়ে কেটে পড়ে, দূরে গিয়ে সামান্য আড়ালে বসে থাকে। আর মুখ বের করে বাঘের তামাশা দেখে। আপাতত শেয়াল বাঘের নাগাল থেকে দূরে, নিরাপদ জায়গায়।

কচ্ছপ ধীর পায়ে হাঁটছে। কিন্তু বেশিদূর যেতে পারেনি। বাঘ দৌড়ে ধরে ফেলে। আজ কচ্ছপ খেয়েই ক্ষুধা মিটাবো সে। কচ্ছপের মাংস খেতে বেশ মজা। কিন্তু খেতে গিয়ে কোনভাবেই সুবিধা করতে পারল না বাঘ। কচ্ছপের শরীরের উপরের অংশ যে খুব শক্ত! বুড়ো বাঘের দাঁতে কুলোয় না। একবার মুখে নেয় আরেকবার বের করে। কচ্ছপের চোখজোড়া কোটরের ভেতর। মাঝে মধ্যে চোখ খোলে। মিটমিট করে দেখে। দেখতে দেখতে ভয় পায়, ভয়ে আরো জড়ো হয়ে আসে, ভেতরের দিকে যায়। বন্ধুকে খোঁজে। বিপদের দিনে বন্ধুর সহযোগীতা দরকার। বুদ্ধিমান শেয়ালের সহযোগিতা দরকার, অথচ সে আগেই পালিয়েছে।

বাঘ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কচ্ছপের মাংস খাবেই খাবে। কষ্ট হলেও খাবে। চাইলেই যখন-তখন কচ্ছপ মেলে না। কচ্ছপের মাংস খেতে হলে ভাগ্য লাগে। এই মাংসে শক্তি দুই-তিন গুণ বাড়ে। এমন সুযোগ কোন আহাম্মক হাতছাড়া করবে? অন্তত বাঘ হাতছাড়া করতে চায় না। বাঘের মেজাজ খুব খারাপ। সহযোগিতার জন্য এদিক-সেদিক তাকায়। আশপাশে কেউ নেই।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*